চৌধুরী শহীদ, চন্দনাইশ ॥
দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে
দুইযুগ পর শঙ্খনদীর দু’পাড়ের ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে চন্দনাইশ সাতকানিয়া
উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের পঁচিশ সহস্রাধিক পরিবার।
শঙ্খনদীর দু’পাড়ের ১১ কিলোমিটার
দীর্ঘ ভাঙন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে পানি
উন্নয়ন বোর্ড। চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি, দোহাজারী, বৈলতলী ও বরমা এবং সাতকানিয়ার পুরানগড়, বাজালিয়া, কালিয়াইশ
ও খাগরিয়ার ৩০টি গ্রামের ভাঙন কবলিত ২০টি পয়েন্টে প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণে
এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে ইতিমধ্যে
ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রায় ১১ কিলোমিটারের ভাঙন প্রতিরোধে
১৬টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে হয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে এসব কাজের
টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী শুষ্ক মৌসুমে এসব কাজ শুরু করা হবে।
ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি চলতি বছরের জুন, জুলাই
ও আগস্ট মাসে সৃষ্ট চার চারবারের বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া আগের পুরনো
প্রতিরক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজও শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন
বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র। খরস্রোতা শঙ্খনদীর ভাঙন প্রতিরোধে এসব প্রতিরক্ষা
বাঁধের কাজ শেষ হলে ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে দু’পাড়ের পঁচিশ
সহস্রাধিক পরিবার।
গত ৪ অক্টোবর সকালে শঙ্খনদীর উজানে
ধোপাছড়ি থেকে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পানি
উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ৪০
কিলোমিটারের ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোজাফ্ফর
হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিদ্দিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা, পটিয়া সার্কেলের উপ-বিভাগীয়
প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও কার্য সহকারী মোদাচ্ছের হোসেন। সাংসদের
নেতৃত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদল ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের খবর
পেয়ে শঙ্খনদীর দু’পাড়ের ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙ্গনের ঝুকিতে থাকা
লোকজনের ঢল নামে। বিভিন্ন স্থানে তারা ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে শঙ্খনদীর
ভাঙন থেকে রক্ষায় প্রতিনিধি দলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্ঠা করে। বিভিন্ন
স্থানে নদীর পাড়ে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন
নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষায় সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। পদক্ষেপের অংশ
হিসাবে ইতিমধ্যে ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী
কয়েক মাসের মধ্যে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কাজ শুরু করা হবে বলেও
জানান সাংসদ।
এ সময় তিনি আরো বলেন আগামী বর্ষা
মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শঙ্খতীরের দু’পাড়ের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে
ঝুঁকিমুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে ভাঙন প্রতিরোধে বরাদ্দ আরো বাড়ানো হবে বলেও
জানান এমপি। এসময় সাংসদের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু আহমদ জুনু, চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভুইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার আহসান ফারুক, দোহাজারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বেগ, উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি মাস্টার হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী, আবদুল মোনাফ, মোহাম্মদ সেলিম, আজিজুর রহমান আরজু ও ছাত্রলীগ নেতা মাহাবুবুল আলম রিপু।
No comments:
Post a Comment