Add

Monday, October 5, 2015

বিদেশি হত্যার প্রভাব বিনিয়োগ তৈরি পোশাক ও পর্যটনে? রাশেদ পারভেজ ॥


মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে খুন হয়েছেন দুজন বিদেশি নাগরিক। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ঐ দুই বিদেশি হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। পরপর এমন দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সঙ্কটে পড়েছে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ। নিরাপত্তার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে । দক্ষিণ আফ্রিকা নারী ক্রিকেট দলের সফরও বাতিল করার ঘোষণা এসেছে। এছাড়া বায়ার্স ফোরামের যে মাসিক বৈঠক গতকাল হওয়ার কথা ছিল তাও নিরাপত্তা ইস্যুতে স্থগিত করা হয়েছে। এরফলে বিমর্ষ বিনিয়োগ, পোশাক ও পর্যটন খাত। সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিতে সংকট তৈরি করবে। ফলে আস্থা হারাবে বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে তৈরি পোশাকখাতের ক্রেতারা অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। এ অবস্থায় ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি পরবর্তী সময়কার মতো বাজার হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ী নেতারা এও বলছেন, এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হলেও বিনিয়োগে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। সরকারও বিদেশিদের আস্থা ফেরাতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। চট্টগ্রামেও ইপিজেডসহ বিভিন্নস্থানে কর্মরত বিদেশিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে খুন হন ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার (৩ অক্টোবর) রংপুরে খুন হন জাপানের নাগরিক কুনিও হোশি। পরপর এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিক। এমনকি যেসব বিদেশি নাগরিকের এ দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে তারাও এ দেশে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে যান। এরপর থেকে দেশীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মাঝে বিদেশি বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কা প্রবল হতে শুরু করে। কেননা অতীত অভিজ্ঞতা সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১১ জন এবং ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে প্রায় ১ হাজার ১৩৭ জন পোশাক শ্রমিক মারা যায়। চার মাসের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এ দুটো মর্মান্তিক ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চলে নানা সমালোচনা। এরপর শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাজার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। অতীতের মতো এবারও কি দেশের নিরাপত্তার অভিযোগে বিনিয়োগ থমকে যাবে, বাংলাদেশ কি আবারো বাজার হারাতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম দৈনিক আজাদীকে জানান, পরপর দুজন বিদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনা বিদেশিদের কাছে আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে তা ঠিক। তবে সেজন্য দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কে ভাটা পড়বে বলে আমার মনে হয় না। তিনি বলেন, সরকারের উচিত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টাকে বিবেচনা করা। কেননা এরুপ ঘটনা ক্রমাগত ঘটতে থাকলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর ফার্স্ট ভাইসণ্ডপ্রেসিডেন্ট নাছির আহমেদ চৌধুরী জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনেই এখানে বিনিয়োগ করতে আসেন। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক ভালো। সুতরাং এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে বিনিয়োগ কমে যাওয়া কিংবা বাজার হারানোর কোন সম্ভাবনা নেই।

No comments:

Post a Comment