ফেসবুকে পরিচয়, অতঃপর প্রেম। সর্বশেষ প্রেমিকা অরিণের আহ্বানে কক্সবাজার ছুটে গেলেন নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোডের বাসিন্দা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার খোরশেদুল আলম। কিন্তু ভার্চুয়াল এ প্রেমের রসায়ন জমে উঠার আগেই অপহরণের শিকার হলেন প্রেমিক খোরশেদ। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য অপহরণের মূল হোতা স্বয়ং অরিণ! গত রোববার রাতে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অপহৃত খোরশদকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও রোডের পার্শ্ববর্তী রাবার বাগান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণে জড়িত মামুন রশীদ (৪০) এবং মোস্তাক আহম্মদকে (৫০) আটক করা হয়। তবে অরিণ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই অপহরণকারী পুলিশের কাছে স্বীকার করে তারা কক্সবাজার কেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ একটি চক্রের সদস্য। চক্রটি ফেসবুকে ফাঁদ পেতে কৌশলে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে করে থাকে।
পুলিশ জানায়, গত
২৯ সেপ্টেম্বর সকালে কথিত প্রেমিকা অরিণ খোরশেদকে কক্সবাজার যেতে বলে।
এরপর সে বাসায় কাউকে কিছু না বলে কক্সবাজার চলে যায়। এদিকে নিখোঁজ হওয়ায়
তার ভাই বাকলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এ ডায়েরির সূত্র ধরেই
অভিযানে নামে পুলিশ।
অপহৃত খোরশেদ পুলিশকে জানান, ২৯
সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অরিণের কথামত খোরশেদ কক্সবাজারে গিয়ে কলাতলীতে মিসকাত
নামে একটি হোটেলে উঠেন। রাতে অরিণ একটি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে মিসকাত
হোটেলের সামনে যায়। বেড়াতে যাবার কথা বলে অরিণ খোরশেদকে অটোরিক্সায় তুলে।
প্রায় দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর রাস্তায় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তিনজন লোক
জোরপূর্বক অটোরিক্সায় উঠে যায়। তারা খোরশেদের চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং
অজ্ঞাত একটি রুমে নিয়ে আটকে রাখে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে খোরশেদ বলেন, ‘আমাকে
একটি বদ্ধ রুমে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। আমার ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে
যোগাযোগ করে তারা পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাতে আমাকে মারধর করে
চিৎকারের শব্দ আমার ভাইকে শোনানো হয়। তিনদিনের মাথায় রাতে চোখ বেঁধে আমাকে
ছেড়ে দেয়া হয়।’
নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (বন্দর-পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত দৈনিক আজাদীকে বলেন, নিখোঁজের
ঘটনায় থানায় দায়ের করা ডায়েরির সূত্র ধরে অভিযানে নামি। পরে কক্সবাজার
থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত খোরশেদকে উদ্ধার করি। এসময় দুই অপহরণকারীকে
আটক করি। ঘটনার মূল হোতা অরিণকে আটকের চেষ্টা চলছে।
No comments:
Post a Comment