রাজধানীতে পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান
মুহ্ম্মদ খিজির খানকে ঘরে ঢুকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুবর্ৃৃত্তরা। কী
কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানা যায়নি। নিজের বাড়িতে একটি খানকাহ শরীফ ছিল তার, সম্ভবত
তিনি কোনো পীরের মুরিদ ছিলেন। এদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে এক খ্রিস্টান
পাদ্রিকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঈশ্বরদী সার্কেলের
সহকারী পুলিশ সুপার এস এম এ জাহিদ জানান, ঈশ্বরদীর ব্যাপ্টিস্ট মিশনের ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ অব গড’ এর ফাদার লুক সরকার (৫০) সোমবার সকালের দিকে পৌর এলাকার স্কুলপাড়ায় নিজের ভাড়া বাড়িতে হামলার শিকার হন। খবর বিডিনিউজের।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, মধ্য
বাড্ডার বাড়িতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঢুকে পিডিবির
সাবেক চেয়ারম্যান খুন করে পালিয়ে যায়। ছয় তলা ভবনের মালিক খিজির খান পরিবার
নিয়ে তৃতীয় তলায় থাকেন। দোতলায় রয়েছে তার রহমতিয়া খানকা শরীফ। সেখানেই
তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ভবনের সামনের মুদি দোকানি মো. ওয়াহাব বিডিনিউজকে বলেন, বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ৫/৬ জন ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পাশের একটি লন্ড্রি দোকানের কর্মী আবুল কালাম ঘটনার পরপরই ওই বাসায় ঢোকেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, খিজির খানের লাশ বাথরুমে পড়ে ছিল। হাত-পা ছিল বাঁধা, গলা কাটা। ঘটনার পরপরই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ৫/৬ জনের একটি দল এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা
এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ এক বছর আগে ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার
রাজাবাজারের বাসায় একইভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল ইসলামী ফ্রন্টের নেতা
নুরুল ইসলাম ফারুকীকে। তার আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর গোপীবাগে
খুন করা হয় কথিত পীর লুৎফর রহমানকে।
এদিকে ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম এ জাহিদ জানান, ‘নিজের ভাড়া বাড়িতে হামলার শিকার হওয়া ফাদার লুক সরকার পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন’। তিনি বলেন, ‘কোনো উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে কাউকে আটক করা যায়নি।’
আহত লুক সরকার বিডিনিউজকে বলেন, দিন
পনেরো আগে ফোন করে দুই যুবক তার কাছে ধর্মের বাণী শুনতে চায়। সেই দুইজনসহ
মোট তিনজন হঠাৎ করেই সকালে একটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় আসে। তারা বসার
ঘরে বসে কিছুক্ষণ কথা বলে এবং কয়েকটি বই নেড়েচেড়ে দেখে। এক পর্যায়ে তারা
মুখ চেপে ধরে গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করে বলে ফাদার লুক জানান। তিনি বলেন, ‘আমি
একজনের হাতে কামড় দিয়ে চিৎকার করে উঠি। পরে আমার স্ত্রী পদ্মা সরকার ও
প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই তিন যুবক মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।’ ওই তিন
যুবকের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি ফাদার লুক। গির্জায় দায়িত্ব
পালনের পাশাপাশি বাড়িতে চেম্বার খুলে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করেন ফাদার লুক।

No comments:
Post a Comment